আদনান শেলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : আদনান শেলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:৩০ এএম

অনলাইন সংস্করণ

#

বিশ্ব সেপসিস দিবস আজ: সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসায় বাঁচতে পারে জীবন

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব সেপসিস দিবস। সেপসিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এর ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। সেপসিস হলো কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াজনিত একটি গুরুতর জীবনঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক অবস্থা। সময়মতো শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা না হলে সেপসিস দ্রুত শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে এবং রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ডাঃ তানভীর হাসানের মতে, শরীরে কোনো ধরনের সংক্রমণ দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। উচ্চ বা অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তি, ত্বক ফ্যাকাশে বা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণের কোনোটি গুরুতর সংক্রমণের সঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদেরও রোগীর শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সেপসিস প্রতিরোধে সংক্রমণ প্রতিরোধের সাধারণ নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাত ধোয়া, নিরাপদ পানি খাবার গ্রহণ, ক্ষত পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াএসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

বিশ্ব সেপসিস দিবস শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবায় সেপসিস দ্রুত শনাক্ত চিকিৎসার সক্ষমতা জোরদার করা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বছর বিশ্ব সেপসিস দিবসের প্রতিপাদ্য Invest in Sepsis – Save Lives—বাংলায় যার অর্থ সেপসিসে বিনিয়োগ করুনজীবন বাঁচান। প্রতিপাদ্যটির মাধ্যমে সেপসিস মোকাবিলায় সচেতনতা, চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

সেপসিসের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গুরুতর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরে বসে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে সেপসিসজনিত গুরুতর জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

 

স্বাধীনবাংলা.নেট


আরও পড়ুন : মানবিকতায় অনন্য কাপাসিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. হাবিবুর রহমান

                     হামে মৃত্যুহার কমলেও উদ্বেগ কাটছে না, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে হাজারের বেশি মানুষ