প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ০১:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নিত্যপণ্যের
বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে শাকসবজি ও নিত্যব্যবহার্য
বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের বাজার খরচ বাড়লেও
আয় সেই তুলনায় না বাড়ায় সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।
বাজার
ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের বৃষ্টি ও সরবরাহে কিছুটা ঘাটতির কারণে বেগুন, শিম, কাঁচামরিচ,
বরবটি ও শসাসহ কয়েকটি সবজির দামও বেড়েছে। বাজারভেদে দামে পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ সবজিই
আগের তুলনায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
শুধু খাদ্যপণ্য নয়, গত কয়েক বছরে সাবান, টুথপেস্ট, ডিটারজেন্ট, নারিকেল তেল, সেভিং রেজারসহ নিত্যব্যবহার্য অনেক পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খুচরা বাজারে মাঝারি আকারের লাইফবয় সাবান প্রায় ৬০ টাকা, বড় আকারের লাক্স সাবান ৯০ টাকা, এক কেজি হুইল পাউডার ১৭০ টাকা এবং এক কেজি রিন পাউডার প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকার পেপসোডেন্ট টুথপেস্টের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৭০ টাকা। এদিকে এনার্জি বিস্কুট, চানাচুর, সেভিং রেজার, নারিকেল তেল, অ্যারোসল ও এয়ারফ্রেশনারের মতো পণ্যের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে বাজারের তালিকা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পণ্য বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।
ক্রেতা
মাসুম তারেক জানান, মাসের শুরুতে বেতন হাতে পাওয়ার পরপরই বাসাভাড়া, সন্তানদের পড়াশোনা,
চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাবারের খরচ মেটাতে বড় একটি অংশ চলে যায়। এরপর বাজার করতে গিয়ে
দেখা যায়, আগের একই পরিমাণ পণ্য কিনতেও এখন অনেক বেশি টাকা প্রয়োজন। বাধ্য হয়ে অনেকে
মাছ-মাংস কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ পছন্দের খাবার বাদ দেওয়ার পাশাপাশি সাবান, তেল, ডিটারজেন্টসহ
নিত্যব্যবহার্য পণ্যের ব্যবহারও কমিয়ে দিচ্ছেন।
ভোক্তা
অধিকারকর্মীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়,
বিদ্যুৎ ও উৎপাদন খরচ এবং ডলারের বিনিময়মূল্যের প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে পারে। তবে
এসব কারণকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, যৌক্তিক কারণে পণ্যের দাম বাড়লেও অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ খোঁজেন। কারসাজি করে যৌক্তিক বৃদ্ধির চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা হলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়ে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোকে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসার সুযোগ থাকলেও বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজার তদারকি ও মনিটরিংয়ের সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি।
স্বাধীনবাংলা.নেট
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10