প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ০৮:০১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের অধস্তন বিচার বিভাগে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকদের একযোগে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন ১৭ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, শিশু আদালত, অর্থঋণ আদালত, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে নতুন পদ ও কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এসব বদলি ও পদায়ন পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
একটি প্রজ্ঞাপনে জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচারকদের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকারী বিচারকরাও রয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু সহিংসতা দমন-সংক্রান্ত আদালতেও বিচারকদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা জজসহ সমপর্যায়ের বিচারকদের বিভিন্ন জেলা ও আদালতে পদায়ন করা হয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারিক দায়িত্বের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে।
এ ছাড়া অর্থঋণ আদালত, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্মরত যুগ্ম জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচারকদেরও বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিচারকদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিচারকদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা দপ্তরপ্রধানের মনোনীত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এরপর তাদের অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
তবে কোনো বিচারক প্রশিক্ষণ কিংবা ছুটিতে থাকলে তার ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা রাখা হয়েছে। নৈমিত্তিক ছুটি ছাড়া অন্যান্য প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পর নির্ধারিত নিয়মে দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
এদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বদলি হওয়া বিচারকের মোট সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। কিছু প্রতিবেদনে ৯০ জনের কথা বলা হলেও অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে মোট ৯৯ জন বিচারককে বদলি ও পদায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে ৪৪ জেলা জজ, ২৬ অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ যুগ্ম জেলা জজ, দুই সিনিয়র সিভিল জজ ও দুই সিভিল জজসহ মোট ৯৯ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন কর্মস্থলে বিচারকদের দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর ও যোগদানের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত নিয়ম অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগে এ ধরনের প্রশাসনিক বদলি ও পদায়ন নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে হয়ে থাকে। এবারের রদবদলের ফলে দেশের বিভিন্ন আদালত ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আসবে। নতুন কর্মস্থলে বিচারকদের যোগদানের পর সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোর বিচারিক কার্যক্রমও নতুন প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিচালিত হবে।
স্বাধীনবাংলা.নেট
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10