প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ , ১২:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আনন্দ টিভির প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাপাসিয়া প্রেসক্লাব ও কাপাসিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে কাপাসিয়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে যদি মিথ্যা বা ভিত্তিহীন মামলার মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল ফকির, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা লিটন, সাবেক সভাপতি সঞ্জীব কুমার দাস, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাকির হোসেন কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম, কাপাসিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শফিকুল আলম সবুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক গণকন্ঠ ও এনটিভির কালীগঞ্জ - কাপাসিয়া প্রতিনিধি মো. এখলাছ উদ্দিন, সাংবাদিক তপন বিশ্বাস, উত্তম দাস, হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
জানা যায়, গত ২২ জুলাই ফাতেহা মাহমুদা ইভা নামে এক নারী কাপাসিয়া থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কাপাসিয়া ইউনিয়নের সাফাইশ্রী মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে গত ১৯ জুলাই বাদীর দাবি করা জমিতে স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাহফুজুর রহমান রাসেল, মাসুদ পারভেজ চৌধুরী, মানিক চন্দ্র বর্মন, শংকর চন্দ্র বর্মনসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আনন্দ টিভির প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, তিনি অভিযোগকারীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কখনও কোনো বিরোধে জড়াননি। তার দাবি, পেশাগতভাবে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
জরুরি সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হয়, তাহলে নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রত্যাশা, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
স্বাধীনবাংলা.নেট
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10