জাকলিন আল ইসলাম গাজী, স্টাফ রির্পোটার জাকলিন আল ইসলাম গাজী, স্টাফ রির্পোটার

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৪৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

গৌরব, ঐতিহ্য ও শিক্ষার দীপ্ত প্রতীক: কালীগঞ্জের জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী’র অনন্য ইতিহাস

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী, বেরুয়া, ভাটিরা, মাজুখান, ব্রাহ্মণগাঁও, কৌচান কলুনএই সাত গ্রামের শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী। 

১৯৬৮ সালে, যখন গ্রামীণ অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত, তখন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এগিয়ে আসেন বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ফুলদীর ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের সদস্য মরহুম মো. মহসিন খান। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সাহসী উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শুরু হয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মহৎ পরিকল্পনা।

শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে মরহুম মহসিন খান সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগী জনহিতৈষীদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। এই মহৎ উদ্যোগে মরহুম মহসিন খানের প্রস্তাবে ‍জমি দান করে অনন্য অবদান রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক, জনহিতৈষী মরহুম ডাক্তার. মুক্তাজুল হোসেন খান রাজা মিয়া, আতাহার উদ্দিন খান মানিক মিয়া, আজাহার উদ্দিন খান সাহাজাদা মিয়া, নুর আক্তার খানম মাহবুবুর রহমান খান মহুব মিয়া।

তাদের আত্মত্যাগ, সামাজিক দায়বদ্ধতা জনকল্যাণমূলক মানসিকতায় গড়ে ওঠে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুধু শিক্ষা নয়, বরং একটি শিক্ষিত, সচেতন উন্নত সমাজ বিনির্মাণের ভিত্তি রচিত হয়। দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলায় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় ফুলদী আজ কালীগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি হাজারো শিক্ষার্থীর জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ভবিষ্যৎ গঠনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, মরহুম মো. মহসিন খান ফুলদী বাজার, ডাকঘর, সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। আজও তার অবদান জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস কালীগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

এসবিএন/জাআইগা