প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুরের
শ্রীপুর উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের বাগান এখন আর শুধু একটি
কৃষি উদ্যোগ নয়—এটি পরিণত
হয়েছে প্রকৃতিপ্রেমীদের নতুন আকর্ষণকেন্দ্রে। সবুজ মাঠজুড়ে হলুদ সূর্যমুখীর সারি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
শ্রীপুর
উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. কবির হোসেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো সূর্যমুখী চাষে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। এ বছর তিনি
প্রায় ১২ বিঘা জমিতে
সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। গত বছর শখের
বসে ছয় বিঘা জমিতে
চাষ শুরু করলেও ভালো ফলন ও সাড়া পেয়ে
এ বছর দ্বিগুণ পরিসরে চাষ সম্প্রসারণ করেন।
কয়েকদিন
আগে ফুল ফোটা শুরু হতেই বাগানটি দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়। চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে
প্রতিদিনই হাজারো মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে বাগানটি দেখতে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে
পড়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
দর্শনার্থীদের
সুবিধার্থে বাগান এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান, শিশুদের খেলনার স্টল ও ছবি তোলার
জন্য সাজানো বিভিন্ন ফটোস্পট। বাগানে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৩০ টাকা নির্ধারণ
করা হয়েছে। উদ্যোক্তা কবির হোসেন জানান, শুরুতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও ফুল ও গাছের ক্ষতি
এড়াতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
নয়নপুর থেকে আসা দর্শনার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বাগানটির ছবি দেখে আগ্রহ তৈরি হয়। বন্ধুদের নিয়ে এসেছি, পরিবেশ খুবই সুন্দর—দারুণ লাগছে। জৈনাবাজার থেকে পরিবারসহ আসা হিরণ মিয়া বলেন, এখানে দেখার মতো অনেক কিছু আছে। ফুলগুলো খুব সুন্দর, সময়টা ভালোই কাটছে।
দর্শনার্থী
মনিরা আক্তার জানান, এত সুন্দর বাগানে
এসে মনটা ভরে গেছে।
কৃষি
উদ্যোক্তা কবির হোসেন বলেন, সূর্যমুখী শুধু সৌন্দর্যের নয়, অর্থনৈতিকভাবেও সম্ভাবনাময় ফসল। এর বীজ থেকে
উৎপাদিত তেল ভোজ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং লাভজনকও। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় তিনি বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক পেয়েছেন।
শ্রীপুর
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, সূর্যমুখী একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল ফসল। গত বছর ভালো
ফলন পাওয়ায় এ বছর বড়
পরিসরে চাষ হয়েছে। উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে
সূর্যমুখীর চাষ চলছে। সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও হৃদরোগীদের জন্য
উপকারী। এ ধরনের চাষ
বাড়লে ভোজ্য তেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে।
এসবিএন
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10