প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬ , ০৪:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে
গ্রীষ্ম এলেই বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং জনজীবনের বড় দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়ায়। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই
বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি উৎপাদনে
বড় প্রভাব ফেলছে। যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বাংলাদেশ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
অর্জন করেছে, তবুও জ্বালানি আমদানি সংকট, গ্যাস ঘাটতি, সেচ মৌসুমে বাড়তি চাহিদা এবং
ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে লোডশেডিং পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সরকারি
তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও বাস্তব উৎপাদন
চাহিদার তুলনায় অনেক সময় পিছিয়ে পড়ে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা,
বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায়
চালানো সম্ভব হয় না।
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, শুধুমাত্র উৎপাদন বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন দক্ষ বিতরণ ব্যবস্থা,
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ, পারমাণবিক
বিদ্যুৎ ও আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে লোডশেডিং
কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোজন ও সরবরাহ স্থিতিশীল হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে বাস্তবতা বলছে, টেকসই সমাধানের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সুষম বণ্টন নীতিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত এখন সম্ভাবনা ও সংকটের সন্ধিক্ষণে। কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে লোডশেডিং কমে আসতে পারে, অন্যথায় এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবেই থেকে যেতে পারে।
এসবিএন
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10
1
2
3
4
5
6
7
8
9
10