ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রক্তে রঞ্জিত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ

স্বাধীনবাংলা, স্টাফ রির্পোটারঃ
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৩৯ বার পঠিত

সংগ্রহীত ছবি

সংবাদটি শেয়ার করুন :

স্বাধীনবাংলা, স্টাফ রির্পোটারঃ

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…। ’ আজ বুধবার, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি।  বাঙালি জাতির জীবনে চিরভাস্বর একটি দিন।  যে দিনে মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের মতো ভাষাসৈনিকেরা রক্ত ঢেলেছিলেন রাজপথে।  আজ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে।

আজ রাজধানীসহ সারা দেশে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে ভাষাশহিদদের। তাদের স্মরণে হবে আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন।  মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে অমর একুশের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।  এছাড়া, কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহিদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মহান এ শহিদ দিবস এবং  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক  বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং  রাষ্ট্র প্রধান শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসন ও শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতিসত্তা বিনির্মাণের প্রথম সোপান।  ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে না হতেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদের মুখের ভাষা ‘বাংলা’ কেড়ে নিতে চেয়েছিল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। এই ঘোষণার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলার ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়ে ওঠে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পূর্ববাংলার ছাত্র-জনতা।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল আহ্বান করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই হরতাল কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। এর ফলে তার ওপর পুলিশি নির্যাতন চালানো হয় এবং ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ গঠন করা হয়।

 

শহিদের রক্তে রঞ্জিত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠা, আত্মবিকাশ ও আত্মবিশ্লেষণের দিন।

 

এসবিএন

ট্যাগস :

রক্তে রঞ্জিত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ

প্রকাশের সময় : ১০:১৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
সংবাদটি শেয়ার করুন :

স্বাধীনবাংলা, স্টাফ রির্পোটারঃ

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…। ’ আজ বুধবার, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি।  বাঙালি জাতির জীবনে চিরভাস্বর একটি দিন।  যে দিনে মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের মতো ভাষাসৈনিকেরা রক্ত ঢেলেছিলেন রাজপথে।  আজ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে।

আজ রাজধানীসহ সারা দেশে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে ভাষাশহিদদের। তাদের স্মরণে হবে আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন।  মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে অমর একুশের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।  এছাড়া, কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহিদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মহান এ শহিদ দিবস এবং  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক  বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং  রাষ্ট্র প্রধান শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসন ও শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতিসত্তা বিনির্মাণের প্রথম সোপান।  ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে না হতেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদের মুখের ভাষা ‘বাংলা’ কেড়ে নিতে চেয়েছিল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। এই ঘোষণার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলার ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়ে ওঠে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পূর্ববাংলার ছাত্র-জনতা।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল আহ্বান করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই হরতাল কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। এর ফলে তার ওপর পুলিশি নির্যাতন চালানো হয় এবং ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ গঠন করা হয়।

 

শহিদের রক্তে রঞ্জিত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠা, আত্মবিকাশ ও আত্মবিশ্লেষণের দিন।

 

এসবিএন