ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo তিনদিন ধরে চলবে ঘূর্ণিঝড় রেমাল Logo পায়রা-মোংলায় ৭ নম্বর, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৬ নম্বর সংকেত Logo এমপি আনার হত্যার রহস্য উদঘাটন,খুনিরা চিহ্নিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo এমপি হত্যাকান্ডে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: ডিবি প্রধান Logo ডিসি-ইউএনওদের জন্য কেনা হচ্ছে ২৬১ বিলাসবহুল গাড়ি Logo এডিপি অনুমোদন Logo বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম Logo তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি করল আবহাওয়া অফিস Logo গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী Logo “স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে ৮০% এরও বেশি বিড়ি শ্রমিক চান বিকল্প কর্মসংস্থান”

মিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেঁচে যাওয়া শিশু হোসাইন মাকে খুঁজছে

স্বাধীনবাংলা, ঢাকা প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৩২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯৬ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন :

স্বাধীনবাংলা, ঢাকা প্রতিনিধিঃ
মিরপুরের পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেঁচে যাওয়া ৭ মাসের শিশু হোসাইন তার মাকে খুঁজে ফিরছে। ভাগ্যক্রমে হোসাইন ফিরে আসলেও বেঁচে নেই তার মা-বাবা ও বড় বোন। এতে বদলে গেছে শিশু হোসাইনের চেনা জগৎ। সে কাউকেই চিনতে পারে না।
মায়ের গায়ের সেই ঘ্রাণ খুঁজে না পাওয়ায় কারো কোলই তাকে স্বস্তি দিতে পারছে না। বারবার আতঙ্কে কেঁদে উঠছে শিশুটি। ঘুমিয়ে থাকার সময়টাতেই শুধু শান্ত থাকছে সে। ঘুম থেকে উঠে আবার চিৎকার করে কাঁদছে। চোখ দুটি খুঁজছে মায়ের মুখ।

আরও পড়ুন:ভিসানীতি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই-প্রধানমন্ত্রী

গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা কমার্স কলেজ সড়কে সিরাজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যু হয় শিশু হোসাইনের মা-বাবা-বোনসহ চারজনের। নিহতরা হলেন- হোসাইনের বাবা মো. মিজান (৩০), মা মুক্তা বেগম (২৫) ও বোন সাত বছরের লিমা এবং অটোরিকশাচালক অনিক মিয়া (২১)। মিজানদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ দেন এই তরুণ। এর আগেই মা মুক্তার কোল থেকে ছিটকে পড়ে বেঁচে যায় শিশু হোসাইন। শিশুটি পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিল। তখন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

স্বজনরা জানান, মিরপুরে চিড়িয়াখানা রোডে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে একটি বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বাস করতেন মিজান। কখনও ফেরি করে লেবুর শরবত বিক্রি করতেন আবার কখনও বাসের হেলপারি করতেন তিনি। কিছুদিন আগে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মিজান গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় ফেরেন। দুপুরে ঝিলপাড় বস্তিতে শাশুড়ির বাসায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দাওয়াত খেতে যান তিনি। রাত পৌনে ১০টার দিকে বৃষ্টির সময় চিড়িয়াখানা রোডের বাসায় ফেরার উদ্দেশে বের হন। তখন প্রচণ্ড বৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সাত মাসের ছেলে হোসাইন ছিল মায়ের কোলে। আর সাত বছরের মেয়ে লিমা বাবার হাত ধরে পানির মধ্যে হাঁটছিল। তখনই তারা ফুটপাতের পানিতে বিদ্যুতায়িত হন।
হোসাইনের মামা সাদ্দাম হোসেন আরিফ দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ গজ দূরের আমির স্টোর নামে একটি হার্ডওয়্যার দোকানের কর্মচারী। তিনি বলেন, আমার ভাগনেই যে পানিতে ভাসছিল তা আমি প্রথমে বুঝিনি। দেখি পানিতে একটা বাচ্চা হাবুডুবু খাচ্ছে। কোলে তুলে দেখি আমারই ভাগনে। তখন তাকে দ্রুত একজনের কাছে দিই হাসপাতালে নেয়ার জন্য। ছোট্ট ভাগনেকে বাঁচাতে পারলেও দুলাভাই-বোন আর আরেক ভাগনিকে বাঁচাতে পারিনি।

আরও পড়ুন: ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বর্তমানে শিশু হোসাইন সেই বস্তিতে আমেনা বেগম নামে এক নারী তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আমেনা বেগম বলেন, আল্লাহ শিশুকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। হোসাইনকে এখন আমার কাছেই রেখেছি। পুলিশও বলেছে রাখতে। পরে তাকে তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ডেসকোর হটলাইনে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। তাদের অভিযোগ, ডেসকোকে ফোন করে ঘটনা জানিয়ে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ করলেও অন্তত ২০ মিনিট পর বন্ধ করা হয়। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছেছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর।

আরও পড়ুন: দুবাই পানির ওপর ভাসমান মসজিদ নির্মানের ঘোষণা

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমীর আলী বলেন, ধারণা করা হচ্ছে চোরাই লাইনে লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিয়ত ওই বস্তি এলাকায় অবৈধ লাইনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অনেক সময় তার কেটে দেয়া হয়।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা হয়েছে। অবহেলাজনিত কাজের কারণে মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ আনা হয়েছে এজাহারে। মৃত অনিকের বাবা বাবুল মিয়া এই মামলা করেন।

এসবিএন

ট্যাগস :

মিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেঁচে যাওয়া শিশু হোসাইন মাকে খুঁজছে

প্রকাশের সময় : ০৪:৩২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
সংবাদটি শেয়ার করুন :

স্বাধীনবাংলা, ঢাকা প্রতিনিধিঃ
মিরপুরের পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেঁচে যাওয়া ৭ মাসের শিশু হোসাইন তার মাকে খুঁজে ফিরছে। ভাগ্যক্রমে হোসাইন ফিরে আসলেও বেঁচে নেই তার মা-বাবা ও বড় বোন। এতে বদলে গেছে শিশু হোসাইনের চেনা জগৎ। সে কাউকেই চিনতে পারে না।
মায়ের গায়ের সেই ঘ্রাণ খুঁজে না পাওয়ায় কারো কোলই তাকে স্বস্তি দিতে পারছে না। বারবার আতঙ্কে কেঁদে উঠছে শিশুটি। ঘুমিয়ে থাকার সময়টাতেই শুধু শান্ত থাকছে সে। ঘুম থেকে উঠে আবার চিৎকার করে কাঁদছে। চোখ দুটি খুঁজছে মায়ের মুখ।

আরও পড়ুন:ভিসানীতি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই-প্রধানমন্ত্রী

গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা কমার্স কলেজ সড়কে সিরাজিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার পাশে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যু হয় শিশু হোসাইনের মা-বাবা-বোনসহ চারজনের। নিহতরা হলেন- হোসাইনের বাবা মো. মিজান (৩০), মা মুক্তা বেগম (২৫) ও বোন সাত বছরের লিমা এবং অটোরিকশাচালক অনিক মিয়া (২১)। মিজানদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ দেন এই তরুণ। এর আগেই মা মুক্তার কোল থেকে ছিটকে পড়ে বেঁচে যায় শিশু হোসাইন। শিশুটি পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছিল। তখন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

স্বজনরা জানান, মিরপুরে চিড়িয়াখানা রোডে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে একটি বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বাস করতেন মিজান। কখনও ফেরি করে লেবুর শরবত বিক্রি করতেন আবার কখনও বাসের হেলপারি করতেন তিনি। কিছুদিন আগে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মিজান গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় ফেরেন। দুপুরে ঝিলপাড় বস্তিতে শাশুড়ির বাসায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দাওয়াত খেতে যান তিনি। রাত পৌনে ১০টার দিকে বৃষ্টির সময় চিড়িয়াখানা রোডের বাসায় ফেরার উদ্দেশে বের হন। তখন প্রচণ্ড বৃষ্টিতে সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সাত মাসের ছেলে হোসাইন ছিল মায়ের কোলে। আর সাত বছরের মেয়ে লিমা বাবার হাত ধরে পানির মধ্যে হাঁটছিল। তখনই তারা ফুটপাতের পানিতে বিদ্যুতায়িত হন।
হোসাইনের মামা সাদ্দাম হোসেন আরিফ দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ গজ দূরের আমির স্টোর নামে একটি হার্ডওয়্যার দোকানের কর্মচারী। তিনি বলেন, আমার ভাগনেই যে পানিতে ভাসছিল তা আমি প্রথমে বুঝিনি। দেখি পানিতে একটা বাচ্চা হাবুডুবু খাচ্ছে। কোলে তুলে দেখি আমারই ভাগনে। তখন তাকে দ্রুত একজনের কাছে দিই হাসপাতালে নেয়ার জন্য। ছোট্ট ভাগনেকে বাঁচাতে পারলেও দুলাভাই-বোন আর আরেক ভাগনিকে বাঁচাতে পারিনি।

আরও পড়ুন: ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বর্তমানে শিশু হোসাইন সেই বস্তিতে আমেনা বেগম নামে এক নারী তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আমেনা বেগম বলেন, আল্লাহ শিশুকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। হোসাইনকে এখন আমার কাছেই রেখেছি। পুলিশও বলেছে রাখতে। পরে তাকে তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে বুঝিয়ে দেব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ডেসকোর হটলাইনে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। তাদের অভিযোগ, ডেসকোকে ফোন করে ঘটনা জানিয়ে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ করলেও অন্তত ২০ মিনিট পর বন্ধ করা হয়। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছেছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর।

আরও পড়ুন: দুবাই পানির ওপর ভাসমান মসজিদ নির্মানের ঘোষণা

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার আমীর আলী বলেন, ধারণা করা হচ্ছে চোরাই লাইনে লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিয়ত ওই বস্তি এলাকায় অবৈধ লাইনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অনেক সময় তার কেটে দেয়া হয়।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা হয়েছে। অবহেলাজনিত কাজের কারণে মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগ আনা হয়েছে এজাহারে। মৃত অনিকের বাবা বাবুল মিয়া এই মামলা করেন।

এসবিএন