ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ডা. নাসিমা আক্তার মালা

পিরিয়ডের সময় ব্যথা হলে যা করণীয়

স্বাধীনবাংলা, ডেস্ক নিউজঃ
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ অক্টোবর ২০২৩ ১৭৯ বার পঠিত

সংগৃহীত ছবি

সংবাদটি শেয়ার করুন :

স্বাধীনবাংলা রির্পোটঃ

পিরিয়ডের সময় মেয়েদের অল্পস্বল্প পেটে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু মাঝেমধ্যে অনেক বেশি ব্যথা হতে পারে। মেডিকেলের পরিভাষায় রোগটিকে বলে ডিসমেনোরিয়া। ব্যথার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম করা যায় না, স্কুল-কলেজ যাওয়া বন্ধ রাখতে হয়। সাধারণত ১৬-২৪ বছরের মেয়েরা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন।

ডিসমেনোরিয়া বা মাসিককালীন ব্যথা দুই প্রকার– প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়ায় জরায়ুতে কোনো রোগ থাকে না। পিরিয়ড শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা শুরু হয়। দু-তিন দিন ব্যথা থাকে। বেশির ভাগ মেয়ের মাসিক চলাকালে এ ধরনের ব্যথা হয়। জীবনের প্রথম মাসিকের সময় থেকেই এ ব্যথা শুরু হয়।

সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর মেয়েদের প্রজননতন্ত্রে ইনফেকশনের কারণে দেখা যায়। হরমোনের সমস্যা, মানসিক চাপ, বেকারত্ব, ডিম্বাশয়ে চকলেট সিস্ট বা পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ, জরায়ু টিউমার ফাইব্রয়েড ও জন্মগত জরায়ু সমস্যা, অ্যান্ডোমেট্রিওসিস এবং অ্যাডেনোমায়োসিসের কারণেও এমন ব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পিরিয়ডের আগে ও পিরিয়ডের পুরো সময় ব্যথা থাকে। মাসিকের পর ধীরে ধীরে ব্যথা কমতে থাকে।

ব্যথা অনেক সময় এত বেশি হয় যে রোগীকে খুব বিমর্ষ দেখায়। ব্যথার সঙ্গে কারও কারও মাথাব্যথা, কোমরব্যথা বা বমি হতে পারে।

 

আরও পড়ুনঃ কম সুন্দর পুরুষের সঙ্গে বেশি সুখী হয় নারীরা- গবেষণা

 

পিরিয়ডের সময় ব্যথা হলে যা করণীয়

পেটে গরম পানির সেঁক দিন।

ভিটামিন ই, বি১, বি৬, সি জাতীয় খাবার খান। যেমন– চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, আম, কলা, আপেল, মাছ, ডিম, গম, সবুজ সবজি এই খাবার মাংসপেশির সংকোচন কমিয়ে ব্যথা কমাবে। গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে ২০-২৪ মিনিট বসে থাকলে উপকার পাবেন।

স্কুলগামী মেয়েদের এটা বেশি হয়। তাই মা-বোন বা পরিবারের আপনজন এ বিষয়ে আগেই ধারণা দিতে পারেন। স্কুলের বইয়ে মাসিক বিষয়ে বলা আছে। তাই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকারা খোলামেলা আলোচনা করলে মেয়েদের ভয় ও জড়তা কমবে। ব্যায়াম করা, পুষ্টিকর খাবার, মানসিক চাপমুক্ত এবং মিনিস্ট্রুয়াল হাইজিন– এ সমস্যা অনেক কমাতে পারে।

ব্যথা পেইনকিলারে না কমলে চিকিৎসকরা অনেক সময় তিন-চার সাইকেল ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যাদের ওজন বেশি, তাদের এ সমস্যা থাকলে ওজন কমাতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করতে হবে। সেকেন্ডারি ক্ষেত্রে কোনো কারণে মাসিকের সময় ব্যথা হচ্ছে, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।

লেখক : স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ।

 

এসবিএন

ট্যাগস :

ডা. নাসিমা আক্তার মালা

পিরিয়ডের সময় ব্যথা হলে যা করণীয়

প্রকাশের সময় : ১১:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ অক্টোবর ২০২৩
সংবাদটি শেয়ার করুন :

স্বাধীনবাংলা রির্পোটঃ

পিরিয়ডের সময় মেয়েদের অল্পস্বল্প পেটে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু মাঝেমধ্যে অনেক বেশি ব্যথা হতে পারে। মেডিকেলের পরিভাষায় রোগটিকে বলে ডিসমেনোরিয়া। ব্যথার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্ম করা যায় না, স্কুল-কলেজ যাওয়া বন্ধ রাখতে হয়। সাধারণত ১৬-২৪ বছরের মেয়েরা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন।

ডিসমেনোরিয়া বা মাসিককালীন ব্যথা দুই প্রকার– প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়ায় জরায়ুতে কোনো রোগ থাকে না। পিরিয়ড শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা শুরু হয়। দু-তিন দিন ব্যথা থাকে। বেশির ভাগ মেয়ের মাসিক চলাকালে এ ধরনের ব্যথা হয়। জীবনের প্রথম মাসিকের সময় থেকেই এ ব্যথা শুরু হয়।

সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর মেয়েদের প্রজননতন্ত্রে ইনফেকশনের কারণে দেখা যায়। হরমোনের সমস্যা, মানসিক চাপ, বেকারত্ব, ডিম্বাশয়ে চকলেট সিস্ট বা পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ, জরায়ু টিউমার ফাইব্রয়েড ও জন্মগত জরায়ু সমস্যা, অ্যান্ডোমেট্রিওসিস এবং অ্যাডেনোমায়োসিসের কারণেও এমন ব্যথা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পিরিয়ডের আগে ও পিরিয়ডের পুরো সময় ব্যথা থাকে। মাসিকের পর ধীরে ধীরে ব্যথা কমতে থাকে।

ব্যথা অনেক সময় এত বেশি হয় যে রোগীকে খুব বিমর্ষ দেখায়। ব্যথার সঙ্গে কারও কারও মাথাব্যথা, কোমরব্যথা বা বমি হতে পারে।

 

আরও পড়ুনঃ কম সুন্দর পুরুষের সঙ্গে বেশি সুখী হয় নারীরা- গবেষণা

 

পিরিয়ডের সময় ব্যথা হলে যা করণীয়

পেটে গরম পানির সেঁক দিন।

ভিটামিন ই, বি১, বি৬, সি জাতীয় খাবার খান। যেমন– চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, আম, কলা, আপেল, মাছ, ডিম, গম, সবুজ সবজি এই খাবার মাংসপেশির সংকোচন কমিয়ে ব্যথা কমাবে। গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে ২০-২৪ মিনিট বসে থাকলে উপকার পাবেন।

স্কুলগামী মেয়েদের এটা বেশি হয়। তাই মা-বোন বা পরিবারের আপনজন এ বিষয়ে আগেই ধারণা দিতে পারেন। স্কুলের বইয়ে মাসিক বিষয়ে বলা আছে। তাই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকারা খোলামেলা আলোচনা করলে মেয়েদের ভয় ও জড়তা কমবে। ব্যায়াম করা, পুষ্টিকর খাবার, মানসিক চাপমুক্ত এবং মিনিস্ট্রুয়াল হাইজিন– এ সমস্যা অনেক কমাতে পারে।

ব্যথা পেইনকিলারে না কমলে চিকিৎসকরা অনেক সময় তিন-চার সাইকেল ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যাদের ওজন বেশি, তাদের এ সমস্যা থাকলে ওজন কমাতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করতে হবে। সেকেন্ডারি ক্ষেত্রে কোনো কারণে মাসিকের সময় ব্যথা হচ্ছে, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।

লেখক : স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ।

 

এসবিএন